» গোলাপগঞ্জের বনগ্রামের গৃহিণী হামিদা আক্তারের ছাঁদ কৃষিতে চমক

প্রকাশিত: ২৩. জুন. ২০১৯ | রবিবার

গোলাপগঞ্জ: ছাঁদকৃষিতে চমক দেখিয়েছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের বুধবারীবাজার ইউনিয়নের বনগ্রামের গৃহিণী হামিদা আক্তার। অবসর সময়ের সদ্ব্যবহার করে এবং দীর্ঘদিনের লালিত শখের বসে অনেকটা বৃহৎ পরিসরে বাড়ির ছাঁদে হরেক রকমের ফল, ফসল এবং ঔষধি গাছের বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি। চার বছর আগে দু-একটি গাছের চারা নিয়ে শুরু হওয়া এ ছাঁদকৃষিতে এখন রয়েছে আটত্রিশ প্রকারের প্রায় শতাধিক গাছ।

দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে থাকা হামিদা আক্তারের স্বামী জানান, আমার স্ত্রী শখের বসে এবং উদ্ভিদের প্রতি ভালোবাসার টানে এই ছাঁদকৃষি গড়ে তুলেছেন। প্রথমে আমি নিজে একটু বিরক্তবোধ করলেও এখন আমার নিজেরও ভালো লাগে। তাই তিনি নিজেও এখন এ বাগানের একজন নিয়মিত কর্মী এবং সহযোগী। বাগানের পরিচর্চায় বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন স্ত্রীকে।

হামিদা আক্তার জানান, স্পেন প্রবাসী ছেলে নোমান আহমেদরও বাগানের প্রতি রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। দেশে থাকাকালীন সময়ে সেও বাগানের পরিচর্চায় মগ্ন থাকতো। এখনও ফোনকলের মাধ্যমে নিয়মিত বাগানের খোঁজখবর রাখেন।

হামিদা আক্তার বলেন, যারা গাছকে ভালোবাসে তারা যেখানেই যাক তাদের মাঝে গাছের প্রতি একটা ভালোবাসা কাজ করে। তার পরিবারের সকল সদস্যের মাঝে উদ্ভিদের প্রতি ভালোবাসা লক্ষণীয়। উদ্ভিদ প্রেমে যারা ভ্রত হয়ে নিজেদের ছাঁদেই গড়ে তুলেছেন নির্মল এক উদ্যান।

নিজেদের বাগানের টাটকা সবজি ও ফলমূল দিয়ে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আত্বীয়স্বজনের মাঝেও বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে, জানান হামিদা। নিজের বাগানের সতেজ ফল ও ফসল বাজারের ফরমালিন যুক্ত ফসলের চেয়ে অনেক বেশি স্বাদযুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত। “বাগানের নির্মল পরিবেশ যে কাউকে মুব্ধ করে ,যা বেশ উপভোগ্য”, ‘ছাঁদে উঠলেই আমার রোগ ভালো হয়ে যায়’- বলেন তিনি।

এছাড়াও হামিদা আক্তার আত্বীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীসহ চেনাজানা সকলকে ছাঁদকৃষিতে উদ্বুদ্ধ করছেন নিয়মিত।

বাগানের জন্য হামিদা আক্তার প্রাকৃতিক উপায়ে নিজেই সার তৈরি করেন। এজন্য তিনি মোরগের বিষ্ঠা, গোবর এবং বিভিন্ন তরকারীর খোসা দিয়ে ছাঁদেই তৈরি করেন কম্পোষ্ট সার। ইউটিউবে কৃষি বিষয়ক নিয়মিত অনুষ্ঠান দেখেন তিনি। এছাড়া শায়খ সিরাজের কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার নিয়মিত দর্শকও তিনি। এগুলো থেকেই কৃষি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে মগ্ন থাকেন। পরে সেগুলোর সফল প্রয়োগ ঘটান নিজের নির্মল উদ্যানে।

এপর্যন্ত হামিদা আক্তার নিজের ছাঁদকৃষিতে গড়ে তুলেছেন দেশি-বিদেশী হরেক রকমের ফুল, ফল ও ফসলের গাছ। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, করমচা, সফেদা, কমলা, মাল্টা, জামরুল, জলপাই, লেবু, বরিশালী আমড়া, আম, পেপে, বিলেতি বরই, আদা লেবু, বেদানা, জারা লেবু, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, আনার, আনারস, ভেন্ডী, কাচা মরিচ, বোম্বে মরিচ, জ্বালি কুমড়া, ধুন্দুল, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধা কপি, পালং শাঁক, পুঁইশাক, করলা, বেগুণ, ঢেড়শ, কলমি শাঁক, কাকরুল, প্রভৃতি।
ঔষধি গাছের মধ্যে রয়েছে, ডায়াবেটিস পাতা (গাইনোরা), পুদিনা পাতা, মেহেদী পাতা, অ্যালোভেরা ইত্যাদি।

হামিদা আক্তার জানান, সরকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ-সহ সার্বিক সযোগিতা পেলে ছাঁদকৃষিতে আরোও বেশি সুবিধা হতো। ছাঁদকৃষিকে আরোও বড় পরিসরে সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন গ্রাম ও শহরের সকলের উচিৎ ছাঁদকৃষিতে মনোনিবেশ করা। ছাঁদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, চাহিদা নিবারণ, সময়ের সদ্ব্যবহার, মানসিক স্বস্তি, এবং ভেজালমুক্ত শস্য পেতে সকলেরই উচিৎ বিকল্প হিসেবে ছাঁদকৃষিকে বেঁছে নেয়া।

সাইফুল আলম মুন্নার তথ্য ও ভিডিও চিত্রে দেখুন সচিত্র প্রতিবেদন

Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬০ বার

Share Button

সর্বশেষ খবর

Flag Counter