» গোলাপগঞ্জের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর দৈন্যদশা

প্রকাশিত: ২৯. আগস্ট. ২০১৯ | বৃহস্পতিবার

গোলাপগঞ্জের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর দৈন্যদশা

অনলাইন ডেস্ক: জনবল সঙ্কট ও তদারকির অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে  গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো। নামে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র হলেও সেবার ক্ষেত্রে টনটন। ডাক্তারসহ বিভিন্ন পদে জনবল না থাকায় গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা’সহ গ্রামীণ শিশু, নারী ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবসর গ্রহণ ও বদলীজনিত কারণে জনবল শূণ্য হয়ে পড়েছে এসব উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো। জোড়াাতালি দিয়ে চলছে এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা কার্যক্রম। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ, ভাদেশ্বর, গোলাপগঞ্জ উপস্বাস্থ্য উপকেন্দ্রসহ ৩টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল অবস্থা।

এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে মেডিকেল অফিসার, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা, ফার্মাসিস্ট, অফিস সহায়কসহ ৪টি পদ রয়েছে।

তন্মধ্যে ঢাকাদক্ষিণ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ফার্মাসিস্ট পদটি শূন্য রয়েছে। এ কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাক্তার নাজিয়া ফারজানা শম্পা ডেপুটিশনে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকেন, ফলে সেখানকার রোগীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে।ভাদেশ্বর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার, উপ-সহকারী মেডিকেল  কর্মকর্তা, ফার্মাসিস্ট পিয়নসহ ৪টি পদ রয়েছে শূন্য তবে উপজেলা হাসপাতাল থেকে একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার এসে নিয়মিত রোগী দেখেন।

গোলাপগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার, পিয়নসহ ৪ টির মধ্যে ৩!টি পদই  রয়েছে শূন্য। তবে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কমিউনিটি কর্মকর্তা হজে¦ থাকায় তবে আপাতত উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে এসে একজন ডাক্তা রোগী দেখেন।
এতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আশপাশ ও দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় জরুরী প্রয়োজনে নিয়ে যেতে হচ্ছে প্রায়  উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। জনবল না থাকায় এবং নিয়মিত তদারকির অভাবে ঝোপঝাড়ে ও ময়লার বাগাড়ে পরিণত হয়েছে অনেক উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো।

সরজমিনে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলো পরিদর্শনে দেখা যায়, ঢাকাদক্ষিণ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা লক্ষীপাশা ইউপির রায়না বেগম(৩৫), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার দাউদপুর ইউনিয়নের সাম্মী বেগম(৩০), ভাদেশ্বর ইউপির বশির উদ্দীন(৪৫), ফুলসাইন্দ ইউপির শেফালী বেগম(৩৫), শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের আয়শা সিদ্দীকা(৪০), বুধবারী বাজার ইউপির দিলারা বেগমসহ অনেকের সাথে আলাপকালে তাঁরা বলেন, আমরা প্রায়ই ঢাকাদক্ষিণ উপকেন্দ্র চিকিৎসা নিতে আসি।

ডাক্তার সাহেব খুবই ভালো এবং বিজ্ঞ। কিন্তু সেই সকালে এসে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর দুপুর ১টায় ডাক্তার সাহেবের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র পেলাম। আবার অনেক গরীব অসুস্থ পুরুষ ও গর্ভবর্তী মহিলা সিরিয়েলের অপেক্ষা ও পাশে ফেলে রাখা ময়লা বাগাড়ের দুর্গন্ধে সহ্য করতে না পেরে অনেকে চলে গেছে।

এখানে কয়েক মাস আগে এক ডাক্তার আপা সামনে চেম্বারে বসতেন আর এখানে উনার সহকারী বর্তমান ডাক্তার সাহেব দুজনই রোগী দেখতেন তাতে কোন ঝামেলা হত না। এখন উপ-সহকারী কর্মকর্তা উনি একাই রোগী দেখেন, তাই এসব ভোগান্তি প্রকট আকার ধারন করেছে। অনেক রোগী সিরিয়েলে অপেক্ষা আর ময়লার দূর্ঘদ্ধে অনেকে বমি করেছে। ফলে চিকিৎসা না নিয়ে অসুস্থবস্থায় ফিরে গিয়েছে।
শুনেছে ঐ ডাক্তার আপা এখন ধারাবহর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী দেখেন। আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করছি ঐ (নাজিয়া ফারজানা শম্পা) ডাক্তার আপাকে আবার যেন এখানে রোগী দেখার সুযোগ এবং পাশে ফেলে রাখা ময়লা অপসারণের জোর দাবী জানাচ্ছি।

ঢাকাদক্ষিণ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারী মেডিকেল  কর্মকর্তা ডাক্তার হেলাল জানান, এখানে যে কয়েকটা রুম আছে সবগুলোতে একটু বৃষ্টি হলেই চাল দিয়ে পানি পড়ে, দরজা জানালা নষ্ট কোন মতে রশি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে, দেওয়াল না থাকায় বাহিরে থেকে বাজারের ব্যবসায়ী ও বাহিরের লোকজন এখানে ময়লা ফেলে রাখায় দুর্গন্ধে রোগীগের কষ্ট হয়।

ভাদেশ্বর উপ-চিকিৎসা কেন্দ্রে ৪টি পদই শূন্য। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে আপাতত একজন সহকারী কমিউনিটি ডাক্তার আফিল উদ্দিন বসেন। চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর সাথে আলাপকালে জানা যায় এখানে খুব ভালো চিকিৎসা হয়। ডাক্তার সাহেব খুব মনযোগ সহকারে রোগীদের সেবা দেন। ডাক্তার সাহেবের সাথে আলাপকালে জানা যায়, এখানে প্রতিদিন ১০০/১২০ জনের মত রোগী আসেন।

রোগীর অনুপাতে ঔষধ কম। তাছাড়া বসার মত চেয়ার টেবিল গুলি জরাজীর্ণ অনেক সময় এখানে বসা যায় না। মিস্ত্রী এনে বার বার মেরামত করার পর চেয়ার ও টেবিলের বিভিন্ন অংশ খুলে যায়।এ ব্যাপারে উর্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।

এব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার তওহীদ আহমদ সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, আমাদের উপজেলা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল অফিসার, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা, ফার্মাসিষ্ট, অফিস সহায়ক সঙ্কট রয়েছে, তাই রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব পদে সরকারের নিয়োগাগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে প্রত্যেকটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা কার্যক্রম কোন ব্যাঘাত হবে না বলে আমি আশাবাদী।

Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৯ বার

Share Button
  • রবিবার ( সকাল ৭:৪৪ )
  • ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং
  • ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী
  • ৫ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( হেমন্তকাল )

সর্বশেষ খবর

Flag Counter