» একটি বিশ্লেষণধর্মী মূল্যায়ন

প্রকাশিত: ০৫. সেপ্টেম্বর. ২০১৯ | বৃহস্পতিবার

একটি বিশ্লেষণধর্মী মূল্যায়ন

 

।। ইনাম চৌধুরী ।।

হেদায়েত আহমদ চৌধুরী। নামেই যার পরিচয়। তিনি ছিলেন সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান। তার পিতাও ছিলেন একজন হাকীম। পরিবারের সকল সদস্যই স্ব স্ব ক্ষেত্রে দে দীপ্যমান। তারা আপন আপন কর্মক্ষেত্র ছাড়িয়েও এগিয়েছেন মানবকল্যাণ আর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে। তারা সফল হয়েছেন পুরোদস্তুর। ব্যক্তি বা রাষ্ট্র তাদের কর্মপ্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিক বা না দিক সমাজ ও উপকারভোগীরা সশ্রদ্ধ চিত্তে তাদের স্মরণ করছে অদ্যাবধি।

বাল্যকালে শুনতাম এশিয়ার বৃহত্তম গ্রামটির নাম বানিয়াচং, যেটি বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। অন্যদিকে এশিয়ার সর্বোচ্চ শিক্ষিতদের বাস সিলেটের গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর গ্রামখানি। ছবির মতো একটি গ্রাম। পটে আঁকা ছবির মতো সেখানকার জীবনধারা। সেই গ্রামের বাসিন্দারা প্রায় সকলেই বরেণ্য, কৃতবিদ্য আর আপন মহিমায় দেদীপ্যমান। হেদায়েত আহমদ চৌধুরী সেই গ্রামেরই একজন সুযোগ্য সন্তান, যদিও তারা দীর্ঘকাল ধরে সিলেট শহরেই আবাস গড়েছেন কিন্তু দূরে ঠেলে দেননি নিজ গ্রামকে। ভাদেশ্বরের উন্নয়নে হেদায়েত আহমদ চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ আমৃত্যু অবদান রেখে গেছেন। হেদায়েত আহমদ চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের সদস্য।

 

মাদক আর অনৈতিকতার দিকে যেন তারুণ্যকে পরিচালিত করতে চায় একটি মহল। নিশ্চয়ই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হাসিলে তারা ছক কেটে রেখেছে। তারা জাতিকে ধ্বংস করতে চায়। পুরো জাতিকে পরনির্ভরশীল হিসাবে দেখতে চায়। সৃষ্টিশীলতাকেও ধ্বংস করে কুপমন্ডুকতা আর নতজানু একটি জাতি সৃষ্টি হোক এমনটিই দেখতে চায়। আজ কথায় কথায় তরুণ প্রজন্মকে জঙ্গীবাদী বা আতংক সৃষ্টিকারী দল হিসাবে দেখাতে চায়। মহল বিশেষ চায় যেন এই উদীয়মান তরুণ সমাজকে কারারুদ্ধ করে রাখতে পারলে একটি বিশেষ গোষ্ঠী পুরো জাতির মাথার উপর ছড়ি ঘোরাতে পারবে। এমনতরো ইচ্ছা থেকেই এ জাতীয় কর্মতৎপরতা।

 

পরবর্তীকালে বাংলাদেশ আমলে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সৌদিআরবেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পদটি অলংকৃত করেছিলেন জনাব হেদায়েত আহমদ চৌধুরী। আমি আগেই উল্লেখ করেছি, হেদায়েত আহমদ চৌধুরীর গ্রামটি যেন ছিল শিক্ষাদীক্ষার চারণভূমি, তেমনি তার পরিবারটিও ছিলো জ্ঞানে, গুণে আর বদান্যতায় ভরা একটি সমৃদ্ধ তারকাপুঞ্জের সমাহার। সরকারী দায়দায়িত্ব পালনকালে একবার শিক্ষাসচিবও ছিলেন তিনি এবং তার আমলে শিক্ষাক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গৃহিত হয়েছিলো।

আমি একটি ইংরেজী মাধ্যম (বিদেশী) শিক্ষাক্রম এর বিদ্যালয়ে চাকুরীরত থাকাকালীন তিনি আমাদের বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসেন। বিদ্যালয়টি আকারে, আয়তনে, শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় অর্থাৎ সবদিক দিয়েই ছিলো বিরাট আয়তনের। আমাকে বেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হতো শিক্ষকতার পাশাপাশি ওই বিদ্যালয়টিতে। তিনি এসেই আমাকে ডেকে নেন, সবকিছু বিস্তারিত জেনে নেন আমার কাছ থেকে এবং তারপরে পরম দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক হিসাবে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন এবং আমার কাছ থেকে সংগৃহিত তথ্যাবলী যাচাই বাছাই করে দেখেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে।

এক কথায় তিনি কর্তব্যকর্মে যেমন ছিলেন পারদর্শী তেমনি সচেতন মানসিকতার প্রমাণ রাখতেন সব কর্মে। শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি যেন চাইতেন শতভাগ পূর্ণতা এবং সেটি নিশ্চিত করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না কখনো। তিনি বাংলাদেশ বিমানেরও চেয়ারম্যান ছিলেন চাকুরীসূত্রে। প্রবাসীদের বিশেষ করে সিলেটীদের ব্যাপারে সীমিত পরিসরে হলেও অবদান রেখে গেছেন অকুন্ঠচিত্তে। সেদিন রাজধানী ঢাকা তথা বাংলাদেশের একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে প্রবেশ লাভের সুযোগ আমার হয়েছিলো। অবসর জীবনে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন হেদায়েত আহমদ চৌধুরী। সবকিছুই তিনি গুছিয়ে আনেন তার পরিকল্পনা বা মানস পূরণে। সেই ক্ষণটিতে এগিয়ে আসেন আমাদের সিলেটেরই আরেক ধনাঢ্য ব্যক্তিত্ব রাগীব আলী। তার সহায় সম্পদ রয়েছে অঢেল, দানশীলতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুনামের অধিকারী বলতে বোধহয় তিনিই। রাগীব আলী হেদায়েত আহমদের পাশে দাঁড়ান। তিনি দৃঢ়কন্ঠে বলে উঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য পছন্দ করা জায়গাটি তিনি কিনবেনই, অর্থকড়ি যা লাগে লাগুক। কাজটি তিনি ঠিকই করলেন। বিপুল অর্থ খরচ করে জায়গাটি ক্রয় করে হেদায়েত আহমদের উদ্যোগে বাংলাদেশ এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করলেন।

তিনি যে জাতীয়ভাবে শিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে চান সেটার প্রমাণ রাখেন বাংলাদেশ এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার মারফতে। উদ্যোগ আর প্রেরণা আসে হেদায়েত আহমদ তরফ থেকে। হেদায়েত আহমদ তিলে তিলে গড়ে তুলেন বিশ্ববিদ্যালয়টি। তার আহবানে আরো অনেক শিক্ষানুরাগী এগিয়ে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি দৃঢ় ভিত্তিভূমিতে দাড় করাতে। আজ হেদায়েত আহমদ চৌধুরী আর রাগীব আলীর প্রাথমিক আর প্রারম্ভিক সৎকর্মটি বিরাট মহীরুহ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাজধানী মহানগরীর গ্রীন রোডে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী আর মানসম্মত শিক্ষকমন্ডলীর সমাহারে এটি যেন এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন। পনেরো আনার সাথে যেমন এক আনা যুক্ত না হলে ষোল আনা হয় না।

তেমনিভাবে হেদায়েত আহমদ চৌধুরী মরহুম আর রাগীব আলীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ফুলে ফলে, পত্রপল্লবে বিকশিত হয়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছে সেটি। হেদায়েত আহমদ ইহলোক ত্যাগ করেছেন কিন্তু তার কীর্তি রেখে গেছেন স্মৃতি জাগানিয়া স্মারক হিসাবে। রাগীব আলী এখনও বেঁচে আছেন কিন্তু কর্মে আর সৃষ্টিশীলতায় রয়েছেন অগ্রণীদের দলে।

আজ আমাদের দেশটিতে নানা ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে নানামুখী উদ্দেশ্য নিয়ে। সরকারী বেসরকারী খাতে শিক্ষা বিস্তারে সেগুলো অবদান রাখছে নিশ্চয়ই কিন্তু তারপরেও হানাহানি, রাজনৈতিক হিংসাশ্রয়ী কার্যাবলী অনেকগুলোকেই বেশ বিপর্যয়কর অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে হেদায়েত আহমদ মরহুম এর উদ্যোগে সৃষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন সবকিছু থেকে নিজেকে রক্ষা করে এগিয়ে চলেছে সম্মুখপানে।

আজ আমাদের দেশটিতে যেনো চলছে তারুণ্য আর মেধাবীদের ধ্বংসাত্মক পথে টেনে আনার পালা। পরিকল্পিতভাবে যেন সব কিছু এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। মাদক আর অনৈতিকতার দিকে যেন তারুণ্যকে পরিচালিত করতে চায় একটি মহল। নিশ্চয়ই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হাসিলে তারা ছক কেটে রেখেছে। তারা জাতিকে ধ্বংস করতে চায়। পুরো জাতিকে পরনির্ভরশীল হিসাবে দেখতে চায়। সৃষ্টিশীলতাকেও ধ্বংস করে কুপমন্ডুকতা আর নতজানু একটি জাতি সৃষ্টি হোক এমনটিই দেখতে চায়। আজ কথায় কথায় তরুণ প্রজন্মকে জঙ্গীবাদী বা আতংক সৃষ্টিকারী দল হিসাবে দেখাতে চায়। মহল বিশেষ চায় যেন এই উদীয়মান তরুণ সমাজকে কারারুদ্ধ করে রাখতে পারলে একটি বিশেষ গোষ্ঠী পুরো জাতির মাথার উপর ছড়ি ঘোরাতে পারবে। এমনতরো ইচ্ছা থেকেই এ জাতীয় কর্মতৎপরতা।

আজ পুরো জাতিকে নেতৃত্বশূন্যতা মুক্ত হতে হবে। যোগ্য, সৎ আর শিক্ষানুরাগী একজন নেতাকে সঠিক পথ বাতলিয়ে দিতে হবে। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে মাদকের সংশ্লিষ্টতা সৃষ্টিকারীদের রুখতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে আগুয়ান যারা তাদের চিহ্নিত করতে হবে দেশ ও জাতির শত্রু হিসেবে। অনুরূপভাবে মাদক দ্বারা জাতিকে বুদ করে রাখার অপপ্রয়াস রুখতে হবে অচিরেই। শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারকদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে। আতংকমুক্ত পরিবেশে সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে অবিলম্বে। সদ্ভব তদ্ভব।

Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২০ বার

Share Button
  • বুধবার ( রাত ৮:০৬ )
  • ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং
  • ১৯শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
  • ৩রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( শরৎকাল )

সর্বশেষ খবর

Flag Counter