» আব্দুল বাছির একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ

প্রকাশিত: ১১. সেপ্টেম্বর. ২০১৯ | বুধবার

আব্দুল বাছির একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ

 

বায়েজিদ মাহমুদ ফয়ছল:

গত তিন দশক থেকে দেশ-বিদেশেস বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভুমিকা রেখে যাচ্ছেন। একজন সুদর্শন পুরুষ এবং সুন্দর মনের মানুষ হিসেবে তাঁর সুধীজনের কাছে রয়েছে বিরাট গ্রহণযোগ্যতা। প্রতিহিংসার রাজনীতি আর সংকীর্নতাকে তিনি দূরে টেলে দিয়ে বন্ধু সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কাছেও পরম আত্মার আত্মীয়। মা মাটি ও মানুষের প্রতি রয়েছে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। বংগবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী আব্দুল বাছির বিরোধী মতের মানুষের প্রতি সবসময় একটু সহানুভূতিশীল। তার এই মহানুভবতা আর আন্তরিকতা সত্যিই প্রসংসনীয়।সাম্প্রতিক সময়ে কিছু চতুর্থ শ্রেণীর লোক এই জনন্দিত ব্যক্তিত্বকে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য আর অপপ্রচার শুরু করেছে। এগুলি আসলেই খুবই দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।আমি এইসব হিংসুক আর নিন্দুকদের বলতে চাই, প্রতিহিংসা নাম রাজনীতি নয়।বিরোধী মতের লোকজন ঘৃণা করার নাম রাজনীতি নয়।কারো বিরুদ্ধে ব্লাকমেইল করার নাম রাজনীতি নয়। রাজনীতি শিখুন বংগবন্ধুর জীবনকর্ম থেকে।বংগবন্ধু স্বাধীনতার পর কত মানুষকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে রাজনীতি শিখুন মরহুম সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী, সিরাজুল জব্বার চৌধুরী এবং ইকবাল আহমদ চৌধুরী আর আব্দুল বাছির এর মতো প্রজ্ঞাবানদের কাছ থেকে। সারাজীবন যারা একটা আদর্শ নিয়ে মানুষের কাছে অনুকরণীয় হয়ে আছেন। আগে মানুষ হবেন পরে রাজনীতি নিয়ে কথা বলবেন।মুর্খ, ছোটলোক,পেশিশক্তি আর চরিত্রহীন ইতর লম্পট এর কারণে আজকাল ভদ্রলোক রাজনীতি করতে পারছে না।রাজনীতি হতে হবে মানুষের কল্যাণের জন্য। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। এখানে থাকবেনা প্রতিহিংসা আর কাদাছোড়াছুড়ি।থাকবে ক্যাবল মায়া মমতা সহনশীলতা আর শান্তি।

আপনাদের ইগো থাকলে রাজনীতি ছেড়ে দিন। ইগো আর উগ্রতা দেখিয়ে রাজনীতি করা যায় না। মানুষের আস্তাভাজন বা প্রিয়ভাজন হওয়া যায় না।
ইগো আসলে নিজের প্রতি অতি মাত্রায় উঁচু ধারণা। আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান হল, নিজের সত্যিকার যোগ্যতার প্রতি বিশ্বাস। কিন্তু ইগো হল, নিজে যা নন – নিজেকে তাই মনে করা। একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ কোনওকিছু না জানলে বা না পারলে – তা স্বীকার করবে, এবং বিশ্বাস করবে যে, সে চেষ্টা করলে বিষয়টি জানতে বা শিখতে পারবে।
অন্যদিকে একজন ইগো প্রবলেম সম্পন্ন মানুষ কোনওকিছু না জানলে বা না পারলে তা স্বীকার তো করবেই না, শেখারও চেষ্টা করবে না। তার ধারণা সে সবই বোঝে এবং সবই পারে। সে কোনও ভুল করলে মরে গেলেও তা স্বীকার না করে অন্যের ঘাড়ে বা পরিস্থিতির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করবে।যার মাঝে ইগো আছে, সে বড় হওয়ার আগেই নিজেকে বড় কিছু ভাবতে শুরু করে। এই ভাবনার কারণেই কোনদিন সত্যিকার বড় হতে পারে না। কারনটা খুব স্বাভাবিক, আপনি যদি আগেই ভেবে বসে থাকেন আপনি ইতোমধ্যেই অনেক বড় কিছু হয়ে গেছেন, তখন আর সত্যিকার বড় হওয়ার কষ্ট করতে ইচ্ছা করবে না।ইগো মানুষকে চোখ থাকতেও অন্ধ করে দেয়। নিজের কমতি ও দোষগুলো চোখে না পড়ায় সে সেগুলো দূর করতে পারে না, তাই জীবনে সামনে এগুতে পারে না।ভদ্রলোক আর বুদ্ধিমান বিনয় নম্রতা দেখিয়ে অনেক বড় হয়। আর নির্বোধ ব্যক্তি নিজেকে বুদ্ধিমান আর অতি বড় প্রকাশ করতে গিয়ে সকলের কাছে ঘৃণিত হয়।

জীবনে সবাই শেখে। কেউ কেউ শেখার জন্য বেছে নেয় খুব কষ্টের পথ। আপনি যে জিনিস হয়ত মধ্য বয়সে শিখছেন, তা হয়ত অনেকে কৈশোরে শিখে ফেলেছে। কেউ হয়ত স্কুল জীবনে যা শেখার কথা, আজো তা শেখেনি। এগুলো চিন্তা করে অবাক হবেন, তাতে লাভ নেই। আসল বিষয় হলো, আপনি কখন শিখবেন। যখনই হোক, জীবনে যখন “ঠেকে শিখবেন” তখনই আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হতে হয়। প্রকৃতপক্ষে, যতই শিখবেন, শেখার সময়টা অবশ্যই কষ্টের, কিন্তু না শেখা জীবন হতাশা আর গ্লানির। যারা কখনই শেখে না, বুঝেও বুঝে না, দেখেও অনুভব করে না–তারা আজীবন বুকের জ্বালায় দগ্ধ হয়ে মরে। কষ্টের উৎস খুঁজে না পাওয়ার যে জ্বালা, সেটা তারা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে।

কেউ ক্লাসরুমে আনন্দ করে শেখে, কেউ শেখে শুভাকাংখীর উপদেশ থেকে। আবার নির্মম শিক্ষা হলো খুব বড় ক্ষতি থেকে শেখা। তবুও, শেখা শেখাই। একটা কথা বহুল প্রচলিত, “শিখেছি কোথায়? ঠেকেছি যেথায়”। তাই শেখায় কোন লজ্জা নেই, বয়স নেই। ঐ যে বলে না? ‘better late than never’– দেরিতে হলেও শিখুন। শেখাই জীবন। শিখলেই জীবন বদলায়। কিন্তু শেখার পথটা খুব কষ্টের। খুব। যে কোন চিন্তা, অভিজ্ঞতা আমাদের যা শেখায়, তা একটা দুর্গম পথ। কিন্তু, শেখা ছাড়া জীবন হয় না। ‘পড়ো, তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন,’ — শেখার এক পরম আদেশ, হালাল-হারাম, অমুক-তমুক, ইত্যাদি চিন্তা করার আগেই শিখতে দৌড়াতে হবে।

যারা সাধারণ বাক্যই উপলব্ধি করতে পারে না, চোখের সামনে, নিজের জীবনে শত-সহস্র ঘটনা থেকেও শিখতে পারে না। ধর্মের কথা, হালাল-হারাম আর পাপ-পুণ্যের গল্প বলে সে তো কেবল অন্যের ক্ষতিই করবে। আল্লাহ তো দিন-রাত্রির পরিবর্তনে, আকাশ আর দুনিয়ার সৃষ্টির মাঝে তাকিয়ে থেকে চিন্তাশীলদের শেখার আমন্ত্রণ দিয়েছেন। কয়টা হৃদয় সত্যিকারের শিখতে পারি? এই আকাশ আর পৃথিবী, রাত আর দিনে কী কী শিখেছি তা পয়েন্ট করে লিখে নিজেরাই লজ্জায় পড়ে যাবো না?

শিখতে হবে। একদম শিশুদের মতন শেখা। শেখাতেই রয়েছে মুক্তির শুরু। শেখার মাঝেই রয়েছে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার চাবি। সবাই আটকে পড়ে আছি কারাগারে। অজ্ঞতা, অন্ধত্ব, অহং, হিংসার কারাগার। আলো দাও খোদা। ‘নূরুন আলা নূর’ কবে একটানা হতেই থাকবে আমাদের হৃদয়ে।

Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৪ বার

Share Button
  • বুধবার ( সন্ধ্যা ৭:৫২ )
  • ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং
  • ১৯শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
  • ৩রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( শরৎকাল )

সর্বশেষ খবর

Flag Counter