» বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধে আপত্তি নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৯. অক্টোবর. ২০১৯ | বুধবার

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধে আপত্তি নেই: প্রধানমন্ত্রী

ছাত্রলীগের পিটুনিতে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের যে দাবি উঠছে তাতে কোনো আপত্তি নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের কথা বলেন, প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে কিন্তু ছাত্রদের ভূমিকা। অনেক প্রতিষ্ঠানেই এই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ। বুয়েট চাইলে তারাও বন্ধ করতে পারে। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি একেবারেই বন্ধ এটা তো মিলিটারি ডিকটেটরদের কথা।

বুধবার বিকালে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক ও ভারত সফর সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ছাত্র রাজনীতি করেই কিন্তু এখানে এসেছি। ছাত্রজীবন থেকেই আমার দেশের কথা, মানুষের কথা চিন্তা করেছি বলেই আজ কাজ করতে পারছি।

ছাত্রলীগের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের আগে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য আন্দোলন করেছে এই সংগঠন। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ।  ছাত্রলীগের আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন না। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে সেটা আছে, সবাইকে দেখে নিতে অনুরোধ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এদেশে ছাত্র রাজনীতি নষ্ট করেছে সামরিক শাসকেরা। আইয়ুব খানের পর জিয়াউর রহমান এর জন্য প্রধানত দায়ী।

বুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেফটি কে দেবে? পুলিশ গেল আলামত সংগ্রহ করতে, তাদের যেতে দেয়া হলো না। পুলিশ কিছু করতে গেলে তো আবার অন্য কথা আসবে। আলটিমেটাম দেয়ার পর ভিসি গেল, সেখানে ভিসিকেও আটকাল। ভিসির সঙ্গে যেভাবে কথা বলেছে কে ছাত্র আর কে ভিসি সেটাই তো বলা মুশকিল। কাগজ ধরিয়ে বলছে এখনই পাঠ করতে হবে। সেখানে তো সব বিলিয়ান্ট স্টুডেন্ড, তারা কি কিছু বুঝে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। তারা আন্দোলন করছে করুক। আমরা চাই না পুলিশ হস্তক্ষেপ করুক।

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তারা কোন দলের বা কি কিছু দেখা হবে না। অপরাধী- অপরাধীই।

পরিবার হারানো কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো বাপ-মা, ভাই-বোন, সব হারিয়েছি। আমি তো কষ্টটা বুঝি। একটা মেধাবী ছাত্র (আবরার) হারালে মায়ের যে কি কষ্ট আমি বুঝি।

তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে যে দলই করুক না কেনো তার বিচার হবে। আমি ঘটনা শুনে তখনই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে বলেছিলাম। যখন পুলিশ সিসিটিভি নিয়ে আসছে তখন তাদের ঘেরাও করা হলো। তাদের ফুটেজ নিয়ে আসতে দেয়া হবে না। আমাকে জানানো হলো ফুটেজ নিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে। আমার প্রশ্ন ছাত্ররা তাদের আটকে দিলো কেনো?

তিনি যোগ করেন, এরপর আমি যাদের ফুটেজে দেখা গেছে- তাদের মধ্যে যাদের পেয়েছি তাদের অ্যারেস্ট করিয়েছি। আমি আইজিপিকে বলেছি, যথাযথ ব্যবস্থা নিতে। কে ছাত্রলীগ, কে ছাত্রদল। আমি তা বিবেচনা করি না। কি অমানবিক। একটা ছাত্রকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হলো! এক সময় আমাদের অনেক নেতাকর্মীদের এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কখনোই অন্যায় মেনে নিব না। আমার দল হলেও কিছু আসে যায়না।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমি আশার পর থেকে চেষ্টা করছি ক্যাম্পাসগুলোতে এ ঘটনা যেনো না ঘটে। একটা সময় দুপুর দুইটার পর ঢাবিতে ক্লাসই হতো হতো না। ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। যে অন্যায় করেছে সে অন্যায়কারী। গ্রেপ্তার শুরু হয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি হলের সবগুলো রুম সার্চ করা হবে। কোন হলে কারা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলতা করছে তাদের ধরা হবে। কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।  সরকারের খরচে হলে বসে জমিদারি চলবে না। আমি কোনো দলটল দেখব না।

ভারতকে সামান্য পানি দিচ্ছি, এতে হইচই করার কী আছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ফেনী নদীর উৎপত্তি বাংলাদেশের খাগড়াছড়িতে হলেও এ নদীর বেশিরভাগ ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক নদী। আমরা সামান্য ১ দশমিক ১২ কিউসিক পানি দিচ্ছি ভারতকে। এ নিয়ে হইচই করার কী আছে?

ভারতের সঙ্গে ফেনী নদীর পানিবণ্টনের চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ত্রিপুরায় যে পানি দেয়া হচ্ছে, তা হচ্ছে খাবার পানি। কেউ খাবার পানি চাইলে, তা যদি না দিই, তাহলে কেমন হয়!

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা আমাদের ঐতিহাসিক বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার মানুষ আমাদের আগলে রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছে। সেই ত্রিপুরায় সামান্য খাবার পানি দেয়ার জন্য আপত্তি থাকতে পারে না।

-উইমেননিউজ২৪

Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫১ বার

Share Button
  • রবিবার ( সকাল ৬:৩৩ )
  • ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং
  • ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী
  • ৫ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( হেমন্তকাল )

সর্বশেষ খবর

Flag Counter