শিরোনাম

» ১৮ বছরেও চালু হয়নি ইউপি ভবন

প্রকাশিত: ১৯. অক্টোবর. ২০১৯ | শনিবার

১৮ বছরেও চালু হয়নি ইউপি ভবন

মেহেদী হাসান খালিক কুলাউড়াঃ– কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন ভবনের বিভিন্ন জিনিসপত্র অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। তা দেখার যেন কেউ নেই! ১৮ বছর ধরে এভাবেই জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে ভবনটি।

ভবনের কার্যক্রম চালু না হওয়ায় কুলাউড়া পৌর শহরে অবস্থিত জেলা পরিষদের জায়গায় একটি পুরনো ভবনে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে। শহরের এই অফিস থেকে সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার দূরত্ব ১৫-২০ কিলোমিটার। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরে গিয়ে নাগরিকসেবা পেতে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্থানীয়রা।
ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে ২০০০ সালে প্রায় ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সদর ইউনিয়নের জনতাবাজারে একটি দ্বিতল আলিশান কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়। এ ভবনে হলরুমসহ চেয়ারম্যানের কক্ষ, সচিবের কক্ষ, ইউপি সদস্যদের কক্ষ, আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশদের কক্ষ রয়েছে। তবে ভবনে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আসেন না। ফলে সেখানে পরিষদের কোনো কার্যক্রম নেই। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে স্থানীয়রা। এখানে একটি পরিবার অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে।

এ ছাড়া এই আলিশান ভবনটিতে বসে ফার্নিচার তৈরি করছেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিরা।
সরেজমিনে ইউপি ভবনে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত ভবনটির সামনের অংশে পিলারের সঙ্গে গরু-ছাগল বাঁধা। ভবনের নিচতলায় চলছে ফার্নিচারসামগ্রী তৈরির কাজ। বেশির ভাগ কক্ষের দরজা-জানালা নেই। বাকি দরজা-জানালাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। কক্ষগুলো ময়লা-আবর্জনায় সয়লাব। তা ছাড়া প্রায় কক্ষে রয়েছে গরুর খড়, জ্বালানি কাঠ, পারিবারিক কাজে ব্যবহৃত নানা আসবাব। কক্ষের মেঝেতে বিভিন্ন প্রাণীর মলমূত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। শেওলা ধরে ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে।

ভবনটি পরিত্যক্তভাবে পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। তারা জানায়, পৌর শহরে গিয়ে নাগরিকসেবা নেওয়া তাদের জন্য কষ্টকর। শহরে গেলে তাদের ১০০-১৫০ টাকা খরচ হয়। তাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এ ব্যয়ভার বহন সম্ভব নয়। তাই জনতাবাজারের ভবনে পরিষদের কার্যক্রম চালুর দাবি জানায় তারা।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে কুলাউড়া পৌরসভা গঠনের পর কুলাউড়া ইউনিয়ন আলাদা হয়ে যায়। পরে ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান জনতাবাজারে ইউপি ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু নতুন ভবনের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে মৌলভীবাজার জজ আদালতে মামলা করেন দুই শিক্ষক। ফলে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়। এদিকে ভবন নির্মাণের পর ১৮ বছর ধরে দুজন চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবন নির্মাণের সময় দায়িত্বে ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শাহজাহান। পরে তিনি আরো দুবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে সাবেক চেয়ারম্যানের স্ত্রী নার্গিস আক্তার বুবলী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এ দুজনের কেউই ওই ভবনে এক দিনের জন্যও অফিস করেননি। তাঁরা দুজনই কুলাউড়া পৌর শহরের জেলা পরিষদের জায়গায় একটি পুরনো ভবনে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইসতিয়াক হাসান বলেন, ‘মামলার রায়ের কপি পেলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। ইউপি ভবনটি পুনরায় মেরামত ও অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে আরো ৪০-৪৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। ’

সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ‘ইউনিয়ন নিয়ে একটি মহলের সঙ্গে দীর্ঘদিন আইনি মোকাবেলা করেছি। অবশেষে আমরা জয়ী হয়েছি। দীর্ঘদিন মামলার জটিলতা থাকায় ইউনিয়নের নতুন ভবনের কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে আশা করছি, খুব শিগগির ইউনিয়নের কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে। ’

ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার বুবলী বলেন, ‘আমি নতুন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর উচ্চ আদালত থেকে মামলার রায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে এসেছে। এখন এলজিইডির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে ভবনের অবশিষ্ট কাজ শেষ করা হবে। কাজ শেষ হলে এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম শুরু হবে। ’

Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০৭ বার

Share Button
  • মঙ্গলবার ( সকাল ৯:৪০ )
  • ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
  • ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
  • ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( হেমন্তকাল )

সর্বশেষ খবর

Flag Counter