শিরোনাম

» সিলেট আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী ৫৫ জনের নাম প্রকাশ

প্রকাশিত: ০৭. নভেম্বর. ২০১৯ | বৃহস্পতিবার

বিশেষ প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলে অনেক অনুপ্রবেশকারী আছে বলে গুঞ্জন ওঠে। এরপর দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজের তত্ত্বাবধানে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় দলে অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকাও করেন তিনি।

এ বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, ‘দলে অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের তত্ত্বাবধানে করেছেন। এবং তালিকাটি প্রধানমন্ত্রী দলীয় কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সেই তালিকা বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে সারা দেশে এখন যে সম্মেলন হচ্ছে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন একটি নেতৃত্ব আসে। এই নেতৃত্বে যাতে অনুপ্রবেশকারী বা বিতর্কিত বা অপকর্মকারীরা আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের নেতৃত্বে আসতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে যাতে অনুপ্রবেশকারীরা স্থান করে নিতে না পারে এজন্য বিভাগভিত্তিক তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এসব তালিকা দায়িত্বশীল নেতাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় পৌঁছে দিচ্ছেন। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে দলটির বিভিন্ন শাখা ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিলেট বিভাগের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীর তালিকায় উঠে এসেছে ৫৫ জনের নাম। যাদের বেশির ভাগই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী থেকে এসেছেন। বিভিন্ন দল ছেড়ে আসার পর অনেকেবি আওয়ামী লীগের নেতাও বনেছেন।  কোনো কোনো নেতার মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগে ঢুকেছেন, পদ-পদবি পেয়েছেন তারও সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তালিকায়।

তালিকায় থাকা অনুপ্রবেশকারীরা হলেন-সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের আতিকুর রহমান ৫ নম্বর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি, মোহাম্মদ মুন্না বিআইডিসি শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক, হবিগঞ্জের কামাল সরদার সদর উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি, লাখাইয়ের নুরুজ্জামান মোল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের আলী মর্তুজা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের এটিএম জুয়েল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি, মৌলভীবাজারের বড়লেখার মোহাম্মদ আশরাফ উপজেলা তাঁতী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, দক্ষিণ নন্দীপাড়ার শাহ আলম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ,

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বাছিদুর রহমান বরমচাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, ফিরুজ মিয়া ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, বদরুল ইসলাম নানু ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং হাজীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ বক্স।

বিএনপি থেকে যোগ দিয়েছেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের আকরাম হোসেন, মাহবুবুল ইসলাম মিছলু, মামুন আহমদ, বিশ্বনাথের ইদ্রিস আলী, হবিগঞ্জ সদরের মাহমুদ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, কয়ছর আহমদ শামীম, আবদুর নুর মাহির, ফরিদ আহমদ, আবু তালেব, আলাউদ্দিন, সোহরাব হোসেন মুহুরী, আবদুস সামাদ, অনু মিয়া, সোনাই মেম্বার, মাধবপুরের হামদু মিয়া, সোহেল মিয়া, সাহেদ মিয়া, আবদুল গফুর প্রধান, আহাদ আলী, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার ফেরদৌসুর রহমান, মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, মোহাম্মদ মোকাব্বির, মোহাম্মদ একলাস, ময়না মিয়া, বাবুল মিয়া, তাহের মিয়া, আলাউদ্দিন শাহ, আলম মুন্সি, মহসীন আহমদ, আশরাফ আলী, আলেফর খান, আয়াত আলী, সোহরাব উদ্দিন, রাইস উদ্দিন, সাগর মিয়া, মোহাম্মদ মারুফ, নসর মাস্টার, সুজানগরের আবদুর রশীদ চৌধুরী, আরিফুজ্জামান চৌধুরী, মতিউর রহমান মতি ও শাহজাহান মিয়া।

তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে-সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর মাধ্যমে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন সমুজ আলী ও ইদ্রিস আলী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এই দুই ভাই মামলার আসামি হওয়ার পর বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

এছাড়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন ইকবাল হোসেন তালুকদার। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি উপজেলা শাখার সহসভাপতি হয়েছেন। তার বাবা আফতাব উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে ছিলেন। এমন জনশ্রুতির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে এ তালিকায়।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মধু মিয়া ছিলেন ভাটেরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নেতা। তার চাচাতো ভাই তাজুল ইসলাম মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি। সেই মধু মিয়া এখন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার শফিকুল ইসলামও জামায়াত থেকে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা বনেছেন।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাবুল মিয়া, আলী মর্তুজা, মৌলভীবাজারের বড়লেখার মোহাম্মদ আশরাফ, জুড়ীর শরীফুল ইসলাম টেনু, হবিগঞ্জের লাখাইয়ের নুরুজ্জামান মোল্লা, আজমিরীগঞ্জের আলাউদ্দিন মিয়া এবং মোশাহিদ মিয়া মামলার পর আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। বিএনপির নেতা ছিলেন তারা।

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার রফিকুল ইসলাম মলাই যুবদল থেকে যোগ দেওয়ার পর ৩ নম্বর মুড়িয়াউক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

হবিগঞ্জের জামায়াত নেতা শাহেদ মিয়া আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

 

Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৬ বার

Share Button
  • মঙ্গলবার ( সকাল ১০:২০ )
  • ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
  • ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
  • ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( হেমন্তকাল )

সর্বশেষ খবর

Flag Counter