শিরোনাম

» গোলাপগঞ্জে হাঁস মুরগীর খামারে আগ্রহী হয়ে উঠছে যুব সমাজ

প্রকাশিত: 07. November. 2019 | Thursday

আব্দুল আহাদঃ গোলাপগঞ্জে হাঁস মুরগীর খামার করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে যুব সমাজ। কয়েক হাজার যুবক খামার প্রতিষ্ঠায় নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করে অনেকেই বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি লাভের পথ খুঁজে পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে শিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত, অশিক্ষিত সকল শ্রেণীর মানুষের সম্পৃক্ততা দেখা যায়। গোলাপগঞ্জের উপজেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত খামারের ব্যবসা বেশ ভালই চলছে। সেই সঙ্গে অনেকেই হাঁস মুরগী খাবারের ব্যবসা করে অনেক লাভবান হচ্ছেন। গোলাপগঞ্জের যুব সমাজ যেভাবে খামার প্রতিষ্ঠায় অগ্রসর হয়ে আসছে এ প্রতিযোগীতা অব্যহত থাকলে হাঁস-মোরগ উৎপাদনে গোলাপগঞ্জ একদিন সিলেটের অন্যতম এলাকা হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হবে বলে অনেকেই আশাবাদি।
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় কমপক্ষে সাড়ে ৩শ হাঁস মুরগীর খামার রয়েছে। বিল, জলাশয়ের আশপাশে মাত্র কটি হাসের খামার গড়ে উঠলেও উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই মোরগের খামার রয়েছে। যেখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম ও মাংসের মোরগ সংগ্রহ করা হচ্ছে। গোলাপগঞ্জের অনেক খামার থেকে স্থানীয় ভাবে চাহিদা পূরণ করে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় মোরগ বিক্রয় করা হয়। এক্ষেত্রে সিলেট মহানগরীতে প্রতিদিন উল্লেখ যোগ্যহারে মোরগ সরবরাহ করা হচ্ছে। রোগ বালাই না হলে মোরগের ব্যবসায় ক্ষতি খুবই কম হয় বলে খামারীদের তথ্যে জানা যায়। গোলাপগঞ্জের টিলা ও মাঝারি আকারের পাহাড়ী এলাকাতেই মোরগের খামার বেশী। সাধারণত ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোরগের খামার গড়ে তোলা হলে পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফলে টিলা বেস্টিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক হারে মোরগের খামার গড়ে তোলা হয়েছে। সরেজমিনে গেলে দেখা যায় আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর গ্রামের পূর্ব দক্ষিন পাশে প্রায় ২শ ফুট টিলার উপরে ইটালী প্রবাসী শরীফ উদ্দিন একটি ডিম উৎপাদনকারী মোরগের খামার গড়ে তুলেছেন। যেখান থেকে প্রতিদিন সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ডিম সংগ্রহ করা হয়। আমুড়া ইউনিয়নের অন্যতম মোরগের খামারী সালাউদ্দিন মুন্না একজন প্রবাসী পরিবারের সদস্য, তিনি তার ভ্রাতাদের প্রবাসের উপার্জিত অর্থের বড় একটি অংশ মোরগের খামারে বিনিয়োগ করে বেশ অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানালেন। মুন্নার মত আমুড়া ইউনিয়নের শত শত যুবক মোরগের খামার গড়ে তোলতে বেশ আগ্রহী হয়ে কাজ করছেন। উপজেলার বেশিরভাগ মোরগের খামার আমুড়া ইউনিয়নেই গড়ে উঠেছে। ছোট ছোট টিলার সবুজ শ্যামলীমার মধ্যে সুবিধাজনক পরিবেশে মোরগের খামার গড়ে তোলায় ব্যবসায়ীরা বেশ লাভবান হচ্ছেন বলে অনেকেই প্রতিবেদকে জানালেন।
উপজেলার অত্যন্ত প্রশিদ্ধ ইউনিয়ন ঢাকাদক্ষিণেও আমুড়া ইউনিয়নের মত ব্যাপকহারে মোরগের খামার গড়ে উঠেছে। ঢাকাদক্ষিণ থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের বাহন যোগে সিলেট নগরী ছাড়াও অন্যান্য উপজেলায় বয়লার মোরগ বিক্রি করা হয়ে থাকে। উপজেলার প্রতিটি এলাকাতেই কম বেশী গড়ে উঠেছে মোরগের খামার। আর ওইসব খামার পরিচালনায় যুবসমাজ এগিয়ে আসায় একদিকে তারা নিজেদের আয়- উন্নতির পথ খোঁজে পেয়েছে, অন্যদিকে হাজার হাজার মানুষের কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ২৫ থেকে ৩০টি হাঁসের খামার রয়েছে। বিশেষ করে নদী, খাল, জলাশয়, হাওর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে হাঁসের খামার গুলোর অবস্থান। উপজেলার পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের দাড়িপাতন গ্রামের বিলাল আহমদ সুরমা নদীর তীরে ও মৌলভী খালের মোহনায় একটি হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন। শিঘ্রই তার খামার থেকে ডিম সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে জানালেন। তার মত অনেকেই বাঘা, শরীফগঞ্জ, ভাদেশ^র, বাদেপাশা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন। হাঁসের খামার মাংসের জন্য নয়, মূলত ডিমের জন্য যার ফলে শুরুতেই এখান থেকে উৎপাদন সম্ভব হয় না। নির্ধারিত সময়ে হাঁস ডিম পাড়া শুরু করলে ৬ থেকে ৭ মাস ডিম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। মোরগের ডিমের চেয়ে হাঁসের ডিমের চাহিদা বেশী বলে খামারী বিলাল আহমদ জানালেন। গোলাপগঞ্জের যুব সমাজ যে হারে হাঁস মুরগী পালনে ও ডিম উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠছে সরকারি ভাবে তাদেরকে প্রশিক্ষন ও সহায়তা করা হলে গোলাপগঞ্জের হাজার হাজার যুবক যুব সম্পদে পরিণত হবে বলে অনেকেই আশাবাদি।

Share Button

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৭১ বার

Share Button

সর্বশেষ খবর

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার ( বিকাল ৫:২১ )
  • ২৭শে মে, ২০২০ ইং
  • ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
  • ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ( গ্রীষ্মকাল )

Flag Counter