দোয়ারাবাজারে গোলাম আলী শাহ’র মাজারের জমি দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল

দোয়ারাবাজারে গোলাম আলী শাহ’র মাজারের
জমি দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল

সেলিম মাহবুব,ছাতকঃ
দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের মুরাদপুর গ্রামে গোলাম আলী শাহ’র মাজারের জমি দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। মাজারের বাউন্ডারির মধ্যেই কাঁচা টিনের ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে মুরাদপুর গ্রামের আলতাব আলীর পুত্র বুরহান উদ্দিন। মাজারের জমি দখল করে নিয়ে গ্রামের আব্দুল মনাফের পুত্র সিরাজ মিয়া ও জামাল মিয়া, রাহান মাস্টারের স্ত্রী ঝিমিলি বেগম, মাহমুদ আলীর পুত্র আসমত আলী গেদা, শরাফত আলীর পুত্র আব্দুল হান্নান ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। তারা ভক্তদেরকে মাজারে আসতে এবং মাজার জিয়ারতেও বাধা প্রদান করে যাচ্ছে। গত দু’বছর যাবত এ মাজারের পবিত্র ওরস বন্ধ করে দিয়েছে এ দখলদারবাহিনী। মাজারের খাদিম আব্দুল মুকিম শাহকে উচ্ছেদ করে দিতে ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর তার পাকা বসতঘর ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এসময় দখলদার বাহিনীর লোকজন হামলা করে আব্দুল মুকিম শাহ’র জামাই এখলাছ মিয়া সহ ৩ জনকে আহত করে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দেয়া হয়েছে। মাজারের জমি দখলকারী ৭ পরিবারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবরে ২০০৭ সালের ৭ জুন একটি উচ্ছেদ মামলা দায়ের করেন খাদেম আব্দুল মুকিম শাহ। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ৩-৯৮/০৭/১২৮১ স্মারকে দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য দোয়ারা উপজেলা ভূমি অফিসকে বলা হয়। কিন্তু দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত এর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। খাদেমের বসতঘর ভাংচুরের ঘটনায় ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর দিলারা বেগম বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য দোয়ারাবাজার থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত এ মামলার কোনো তদন্ত হয়নি। এ ঘটনায় খাদেম মুকিম শাহ গত ২ মার্চ মহা পুলিশ পরিদর্শক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ (নং-৩৫৩) দিয়েছেন। এ অভিযোগের তদন্তে রয়েছেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক-দোয়ারা সার্কেল) বিল্লাল হোসেন। এর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান, খাদেম আব্দুল মুকিম শাহ। দোয়ারাবাজারের মুরাদপুর গ্রামের বাজিতপুর মৌজায় গোলাম আলী শাহ’র মাজারের নামে রয়েছে ২.৬৯ একর ভূমি। স্থানীয়রা জানান, মাজারের খাদিমকে উচ্ছেদ করে দিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল পুরনো এ মাজারের মূল্যবান ভূমি দখল করে নিতে চায়। ইতিমধ্যে মাজারের জমিতে ৭ টি পরিবার জোরপূর্বক ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে যাচ্ছে। মাজারের তৎকালীন খাদেম রুপজান বিবি ও রাখাল শাহ ছিলেন। পরবর্তীতে রাখাল শাহ’র ওয়ারিশ মহরম আলী, সোনাহর আলী ও আনফর আলীর নামে মাজারের ভূমি রেকর্ডভুক্ত হয়। সোনাহর আলীর ছেলে হাজী আব্দুল হেকিম শাহ, আব্দুল হেকিম শাহ’র ছেলে আব্দুল মুকিম শাহ বর্তমানে মাজারের খাদেম হিসেবে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন। মুরাদপুর-মাছিমপুর, নৈনগাও গ্রামের বেশ ক’জন লোক জানান, একটি প্রভাবশালী দখলদার চক্র মাজারের ভূমি দখলের উদ্দেশ্যে খাদেম ও তার পরিবারের উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। মাজারের ভূমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছে এ চক্র এবং মাজারের কার্যক্রমও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *