প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদার তুলনায় বাজেট খুবই অপ্রতুল।

জিবি বার্তা ডেস্কে :  অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ও সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লার সঞ্চালনায় ৬ জুন ‘জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবস্থান’ শীর্ষক ভার্চুয়াল বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, ডিজএবিলিটি এলায়েন্স অন এসডিজিএস বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ডিজএবিলিটি রাইটস ফান্ড, এনজিডিও, ভিপস, এসডিএসএল, পিসিপিএফ, ডিসিএফ, এনসিডিডাব্লিউ, সীতাকুন্ড ফেডারেশন, টার্নিং পয়েন্ট ও ডাব্লিউডিডিএফের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিজএবিলিটি এলায়েন্স অন এসডিজিএস বাংলাদেশের খন্দকার জহুরুল আলম।
অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৮ হাজার বৃদ্ধি এবং এর জন্য ২০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়ায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রতিবন্ধিতা খাতে (ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক) মোট বরাদ্দ সামাজিক নিরাপত্তা খাতের শতকরা ২.০৭ ভাগ যা মোট বাজেটের শতকরা ০.৩৭ ভাগ । এ বরাদ্দ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কর্মসংস্থানে বাজেটে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি, মাসিক ৭৫০ টাকা ভাতা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য খুবই কম। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯-এর কোনো প্রতিফলন এ বাজেটে পরিলক্ষিত হয়নি।
দেশে অধিকাংশ প্রতিবন্ধী শিশু স্কুলে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত হলেও গত বছরের ন্যায় এ বছরও উপকারভোগীর সংখ্যা ও বাজেট আগের মতো রাখা হয়েছে। এ বছরের বাজেট একটি গতানুগতিক বাজেট। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন কোনো প্রকল্প গৃহীত হয়নি।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাজেট বরাদ্দ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কেন্দ্রিক, অথচ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ধারণায় মন্ত্রণালয় ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘ সনদ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩-এর মতো শক্তিশালী আইনি কাঠামো থাকলেও উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন ও অধিকার বিষয়টির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হয়নি।

সভায় আশরাফুন নাহার মিষ্টি কয়েকটি দাবি পুনর্বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেন। যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল অনুযায়ী অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা জনপ্রতি মাসিক ন্যূনতম ১ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করা, গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেমন- সেরিব্রাল পলসি, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, মানসিক প্রতিবন্ধী, ডাউন সিনড্রোম, মেরুরজ্জুতে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি যাদের সার্বক্ষণিক যত্মের প্রয়োজন হয় সেসব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কেয়ারগিভারের জন্য ভাতা কার্যক্রম চালু করা, শতভাগ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপবৃত্তির আওতায় আনার জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক খাতগুলো উপকারভোগী নির্বাচনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়নে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের যে কর্মসূচি রয়েছে তার প্রত্যেকটিতে উপকারভোগী নির্বাচনে প্রতিবন্ধী নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ আমদানিতে এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান, ভৌত অবকাঠামো ও তথ্যগত প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা, বাজেট প্রণয়নে প্রতিবন্ধীবিষয়ক আইন, নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নবিষয়ক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা, সব ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনকে সামনে রেখে বাজেট বরাদ্দ রাখা, সব ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া, প্রবেশগম্য গণপরিবহণ নিশ্চিত করা, তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক দক্ষতা উন্নয়নের জন্য অ্যাসেসটিভ টেকনোলজি সাপোর্ট ফান্ড, অ্যাকসেসিবল বুকস অ্যান্ড টেকনোলজি ফান্ড গঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ করা।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থার দেশস্থ প্রতিনিধিরা, সাংবাদিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সুশীল সমাজ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের ৭২ জন প্রতিনিধি। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নাসরিন জাহান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *